অপরাধ

২০১৪ থেকে ২০২৬: মালয়েশিয়ায় তিন পৃথক ঘটনায় নিহত ৯ বাংলাদেশি, তদন্ত অব্যাহত

২০১৪ থেকে ২০২৬: মালয়েশিয়ায় তিন পৃথক ঘটনায় নিহত ৯ বাংলাদেশি, তদন্ত অব্যাহত

নেগেরি সেম্বিলানে তিন বাংলাদেশির মৃত্যু, হত্যা মামলা হিসেবে তদন্ত

সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) নেগেরি সেম্বিলান অঙ্গরাজ্যের সেরেম্বানের নিকটবর্তী তামান লিঙ্গি এলাকায়। বিকেল প্রায় ৪টা ১৫ মিনিটে একটি বাড়িতে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

পুলিশ জানায়, ঘটনায় তিন বাংলাদেশিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং আরও একজন গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থল থেকেই চল্লিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড পাওয়া যায়নি। পুলিশ এখনও তার পরিচয় বা ঘটনার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য প্রকাশ করেনি।

নেগেরি সেম্বিলান পুলিশের প্রধান দাতুক আলজাফনি আহমাদ জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট সবাই একই বাগানে কর্মরত ছিলেন এবং একই আবাসিক এলাকায় বসবাস করতেন।

তদন্তকারীরা তিনটি পৃথক স্থান থেকে মরদেহ উদ্ধার করেন। এর মধ্যে দুটি মরদেহ সুয়া মাঙ্গিস এস্টেটের নিকটবর্তী এলাকা থেকে এবং অপরটি শ্রমিকদের আবাসস্থলের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। আহত বাংলাদেশি কর্মীকে রেমবাউ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মামলাটি মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় তদন্ত করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিকে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে পোর্ট ডিকসন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায় জনসাধারণকে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তিন বাংলাদেশি

এর আগের বছর, ২০২৫ সালের আগস্টে, পাহাং অঙ্গরাজ্যের কুয়ানতানের কাছে ইস্ট কোস্ট এক্সপ্রেসওয়ে (LPT1)-এ একটি সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নিহত এবং আরও দুইজন আহত হন।

অভিনয়রত জেলা পুলিশ প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট মোহদ আদলি মাত দাউদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি টয়োটা অ্যাভানজা কুয়ানতান থেকে কুয়ালালামপুরের দিকে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে ছিটকে পড়ে।

নিহতরা হলেন চালক মো. সাবের হাসান (৩০), মো. জাহিদ হাসান (২১) এবং আবদুল্লাহ (২৪)।

আহত হন হাবিব বিশ্বাস (৪৫) ও মনিরাম চন্দ্র বস (৪০)। তাদের কুয়ানতানের তেংকু আম্পুয়ান আফজান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না এবং গাড়িটির রোড ট্যাক্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। এ ঘটনায় মালয়েশিয়ার সড়ক পরিবহন আইন ১৯৮৭-এর ৪১(১) ধারায় তদন্ত শুরু করা হয়। পাশাপাশি গাড়িটির যান্ত্রিক অবস্থাও পরীক্ষা করা হয়।


২০১৪ সালে নির্মাণাধীন এমআরটি প্রকল্পে ধসে নিহত তিন বাংলাদেশি

২০১৪ সালের আগস্টে কুয়ালালামপুরের নিকটবর্তী পেটালিং জায়ায় একটি এমআরটি নির্মাণ প্রকল্পে উঁচু গাইডওয়ের একটি অংশ ধসে পড়লে তিন বাংলাদেশি নির্মাণশ্রমিক নিহত হন।

নিহতদের মধ্যে ছিলেন পাবনার ঈশ্বরদীর বাসিন্দা এলাহী হোসেন, আবদুস সাত্তারের ছেলে; মুন্সীগঞ্জের ফারুক খান; এবং আলাউদ্দিন মল্লিক, যিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।

জীবিকার সন্ধানে তারা ওই বছরের শুরুতে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল মরদেহগুলো উদ্ধার করে সুংগাই বুলোহ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

ঘটনার পর নির্মাণ নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়। পরে এমআরটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী দাতুক আজহার আবদুল হামিদ পদত্যাগ করেন এবং ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের আশ্বাস দেন।


তদন্ত অব্যাহত

২০২৬ সালের নেগেরি সেম্বিলানের ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন। পুলিশ এখনো ঘটনার উদ্দেশ্য বা পূর্ণাঙ্গ কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের সড়ক দুর্ঘটনা এবং ২০১৪ সালের নির্মাণস্থল ধস—উভয় ঘটনাতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সড়ক নিরাপত্তা, যানবাহনের আইনগত বৈধতা এবং কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত পরিচালনা করে।

এক দশকেরও বেশি সময়জুড়ে সংঘটিত এই তিনটি পৃথক ঘটনা মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ এবং আইনগত সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।


নোট

এই প্রতিবেদনটি মালয়েশিয়ার পুলিশ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন। তদন্ত, আদালতের কার্যক্রম বা সরকারি বিবৃতির ভিত্তিতে ভবিষ্যতে নতুন তথ্য প্রকাশিত হলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হতে পারে।