অপরাধ

অনলাইন জুয়া ও ক্রিপ্টো লেনদেনে বাড়ছে সন্দেহজনক আর্থিক কার্যক্রম: ৬,২২২ ব্যাংক ও এমএফএস অ্যাকাউন্ট শনাক্ত, আরও ১৪ হাজার অ্যাকাউন্ট জব্দের উদ্যোগ

অনলাইন জুয়া ও ক্রিপ্টো লেনদেনে বাড়ছে সন্দেহজনক আর্থিক কার্যক্রম: ৬,২২২ ব্যাংক ও এমএফএস অ্যাকাউন্ট শনাক্ত, আরও ১৪ হাজার অ্যাকাউন্ট জব্দের উদ্যোগ

বাংলাদেশে অনলাইন জুয়া, বেটিং, প্রতারণা এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংশ্লিষ্ট সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU)-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এসব কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়েছে অন্তত ৬,২২২টি ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) অ্যাকাউন্ট। এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রায় ৬১.৪৪ বিলিয়ন টাকা জমা এবং ৪৩.৫০ বিলিয়ন টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

BFIU-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে যেখানে অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট অপরাধে মাত্র ৫০টি সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন (STR/SAR) পাওয়া গিয়েছিল, ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি হয়েছে, যা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের বিস্তার নির্দেশ করে।

ক্রিপ্টো ও ডিজিটাল হুন্ডির ঝুঁকি

BFIU জানিয়েছে, অবৈধ অর্থ এখন শুধু ব্যাংক বা এমএফএসে সীমাবদ্ধ নয়। ক্রিপ্টোকারেন্সি, ডিজিটাল হুন্ডি এবং অন্যান্য অবৈধ আর্থিক চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাচারের প্রবণতাও বাড়ছে। এতে দেশের অর্থপাচার প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ঢাকা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ

জেলা ভিত্তিক বিশ্লেষণে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হয়েছে। এর পর রয়েছে চট্টগ্রাম। এছাড়া সাতক্ষীরা, নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, লক্ষ্মীপুর, পাবনা, ফেনী ও ফরিদপুরেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সন্দেহজনক আর্থিক কার্যক্রম শনাক্ত হয়েছে।

নতুন আইন ও অভিযান

২০২৬ সালের সাইবার সিকিউরিটি আইনের ২০ ধারায় অনলাইন জুয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা, অংশগ্রহণ, প্রচার বা সহায়তা করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

সাম্প্রতিক অভিযানে BFIU ইতোমধ্যে ১০ হাজার এমএফএস অ্যাকাউন্ট জব্দ করার পর আরও ১৪ হাজার অ্যাকাউন্ট জব্দের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এছাড়া এর আগে সংসদে জানানো হয়েছিল, অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫৫ হাজার এমএফএস অ্যাকাউন্টের লেনদেন স্থগিত বা জব্দ করা হয়েছে।

BFIU-এর সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে কী আছে?

BFIU-এর ২০২৪–২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অর্থবছরে ৩০,১৯৯টি সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন (STR/SAR) গ্রহণ করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। সংস্থাটি বলছে, উন্নত নজরদারি ব্যবস্থার পাশাপাশি অনলাইন জুয়া, ক্রিপ্টো ও ডিজিটাল হুন্ডির বিস্তার এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।