ঢাকা — ঢাকার দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিন উদ্ধারের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগ। পুলিশ জানিয়েছে, উত্তরা বিভাগ ও দক্ষিণখান থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সজু মজুমদার (২৮), অন্তরা রহমান ওরফে অনু (২২), পারভেজ (২২) এবং বাবু ওরফে সেন্টু (২৫)।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণখানের দক্ষিণ আজমপুর এলাকার একটি বাসায় পাওয়া একটি ক্রসবডি ব্যাগ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
যা উদ্ধার করেছে পুলিশ
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা হয়েছে—
একটি বিদেশি পিস্তল, যাতে “AUTO PISTOL / MADE IN USA” লেখা রয়েছে
দুই রাউন্ড তাজা গুলি
একটি ম্যাগাজিন
উদ্ধার করা আলামত জব্দ করে তদন্তের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
৪ সেপ্টেম্বরের গুলির ঘটনার তদন্ত
পুলিশ জানায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর দক্ষিণখানের আজমপুর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা রোডে শাহিন (২৮) নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে তাকে গুলি করা হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
দক্ষিণখান থানায় অভিযোগ দায়েরের পর তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের গতিবিধি শনাক্ত ও অনুসরণ করেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিভিন্ন এলাকায় অভিযান
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সজু মজুমদার, অন্তরা রহমান ওরফে অনু এবং পারভেজকে মানিকগঞ্জের বালুকা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া জামালপুরের ইসলামপুর এলাকায়ও অভিযান চালানো হয়।
বাবু ওরফে সেন্টুকে দক্ষিণখানের দক্ষিণ আজমপুর এলাকার একটি বাসায় পাওয়া যায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই বাসা থেকেই অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
অভিযান নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মিজাল তারেক বেগ কথা বলেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি বলেন, সশস্ত্র অপরাধী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
গ্রেপ্তার চারজনকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মামলা ও তদন্ত
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়েও আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্ত চলছে।
এসব অভিযোগ Rights Watch News স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। দক্ষিণখান থানায় ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে।
সূত্র: ডিএমপির উত্তরা বিভাগ ও দক্ষিণখান থানা পুলিশের প্রকাশিত সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
